অসামপ্ত বাসিসি ওয়েষ্ট কল অভিযান ২০১৮
উত্তরকাশী থেকে যখন নেলং এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তখন ঘড়িতে সকাল ৭টা।। আমাদের দুটো গাড়ি পাহাড়ী আঁকা বাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলল নেলং এর দিকে। রাস্তার এক জায়গায় গাড়ি থামল প্রাতরাশের জন্য। খাওয়া সেরে আবার চলা শুরু। এবার গন্তব্য শুখি টপ। ওখানে আমাদের একটা গ্রামে কিছু জিনিসপত্র বিতরণের কাজ আছে। অসংখ্য মানুষ এই কাজে আমাদের সাহায্য করেছেন। কেউ ঔষধ পত্র দিয়েছেন, কেউ কম্বল দিয়েছেন, কেউ বাচ্চাদের জামা কাপড়, কেউ খাতা পেন ইত্যাদি। যে যেরকম ভাবে পেরেছেন আমাদের সাহায্য করেছেন। তাদের সকলের কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ।। শুখি গ্রামে পৌঁছতে ১২ টা বেজে গেল। গ্রামে আগে থেকেই বলা ছিল এই অনুষ্ঠানের কথা। আমরা পৌছাতেই গ্রামের অসংখ্য কচিকাচা হাসি মুখে এসে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে গেল। খুবই আনন্দ দাযক এক মূহুর্তের সাক্ষি হলাম আমরা সবাই। একে একে সবাইকে জিনিসপত্র দেওয়া হল। শুধু পাহাড়ে যাওয়া না ওখানকার মানুষদের জন্য সকলের সহযোগিতায় কিছু করতে পেরেছি এটাই সবথেকে আনন্দের।। কাজ সেরে সুখি গ্রামের সবাইকে বিদায় জানিয়ে আবার চলার শুরু।। অতি মনোরম এক পথ। সামনেই হরশিল। হরশিলের অনবদ্য সৌন্দর্য আমাদের আবেগ তাড়িত করে দিল।। রাস্তার পাশে পাইনের বনে রোদ্দুরের লুকোচুরি খেলা চলছে আর নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে গঙ্গার প্রবল ধারা। সুউচ্চ পাহাড় শ্রেণী ধাপে ধাপে উঠে গেছে উপরে। গাড়ি এবার আরো উপরে উঠতে লাগল। উচ্চতা টা এবার টের পাচ্ছি। মাথাটা ঝিম ঝিম শুরু হয়েছে এবার, কখন যে চোখ বুজে এল বুঝতে পারিনি।। চোখ যখন খুললো তখন ভৈরবঘাটি তে গাড়ি থেমেছে। এখানে দুপুরের আহার সারবো আমরা।। গাড়ি থেকে নামতেই হিমেল পরশ লাগল গায়ে।। মেঘের ঘনঘটা পাহাড়ের মাথায়। চায়ের পেয়ালা তে চুমুক দিতে দিতে অনুভব করছি পাহাড়ের মন মাতানো সৌন্দর্য। দুপুরের খাওয়া সেরে এদিক ওদিক একটু ঘুরে বেরালাম। ছবি তুললাম কিছু। আমাদের এখন অপেক্ষা করতে হবে যতখন না মালবাহকদের দুটো গাড়ি এসে পৌঁছয়। কারন এর পর সব গাড়ি একসাথে যেতে হবে। ঘন্টা খানেকের মধ্যে ওদের গাড়ি এসে গেল। ওরা সবাই খাওয়া দাওয়া সেরে মালপত্র গুছিয়ে নিল। এবার নেলং এ ঢোকার পালা। সবাই যে যার গাড়িতে উঠে বেরিয়ে পড়লাম নেলং এর উদ্দেশ্যে। এখান থেকে রাস্তা দুটো ভাগ হয়েছে, ডানদিকে উঠে গেছে গঙ্গোত্রীর দিকে আর আমাদের পথ বামদিকে।। গাড়ি থামল ভৈরবঘাটি র গেটে, এখানে দরকারী সব কাগজপত্র চেক করার পর গেট খুলে গেল আমাদের জন্য। মনের মধ্যে একটা অজানা শিহরণ খেলে গেল। এ পথে খুব কম মানুষই যায়। আর্মি ছাড়া সাধারণ মানুষের যাতায়াত খুবই কম। নেলং ভ্যালি তে প্রবেশ নিষেধ।। পারমিশন ছাড়া অসম্ভব। যাই হোক গেট সবে মাত্র খুলেছে, হঠাৎ একটা আওয়াজ। আমাদের পিছনের গাড়ির চাকা ফেটে গেছে। শুরুতে একটা অজানা বিপদ। আবার অপেক্ষা করতে হল আমাদের যতখন না চাকা ঠিক হচ্ছে। আধ ঘণ্টা পরে আবার গাড়ি তে উঠে চলা শুরু হল। আমাদের চারটে গাড়ি একসাথে চলেছে। চারিপাশের পরিবেশ নিমেষে বদলে গেল। কোন সবুজের চিহ্ন নেই। শুধু রুক্ষ পাহাড় শ্রেণীর দল দৈত্যর মত দাড়িয়ে আছে। ভয়ংকর পথ। রাস্তার অবস্থাও খারাপ। অনেক আর্মি ট্রাক যাতায়াত করছে। এই জায়গাটা পুরোটাই আর্মি কন্ট্রোল করে। পাশেই তিব্বতের সীমান্ত। হঠাৎ গৌতম দা চেঁচিয়ে বলল গাড়ি থামাও।। আমরা তো সবাই হতবাক। কি হল গো।? গৌতম দা সহাস্যে বলল ওদিকে দেখো!!! সেই বিখ্যাত কাঠের সেতু। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা নিয়ে রেডি। নেবে পড়লাম গাড়ি থেকে। নামতেই পুরো থর থর করে কেপে উঠলাম।। প্রচন্ড হাওয়া র তেজে দাড়িয়ে থাকা মুশকিল।। অনেক নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে জাঢ গঙ্গা।। গভীর গিরিখাত,, হাড়হিম করা দৃশ্য।। কিন্তু এই ছবি যে তুলতেই হবে, এই সেই সেতু যে পথে এক সময় ভারতের সাথে তিব্বতের বানিজ্য চলত। কিন্তু কিভাবে এটা বানানো হল সেটা খুব রহস্যময়।। আসলে নেলং পুরোটাই রহস্যে ঘেরা একটা জায়গা। আর বেশি না থেকে গাড়িতে উঠলাম। ডানদিকে দেখা যাচ্ছে কয়েকটি শিখর চূড়া চিরবাস, দেও পর্বত ইত্যাদি। এবার পিচের রাস্তা ধরে গাড়ি ছুটল প্রবল বেগে।। অসাধারণ পথের শোভা দেখতে দেখতে কখন যে এসে পড়লাম নেলং কে জানে। সামনেই নেলং এর চেক পোস্ট।। এখানে আবার সমস্ত কিছু চেক হবে। সেই হাওয়ায় দাপট সমানে চলছে। ঘড়িতে দুপুর দুটো। সব কাগজপত্র নিয়ে গেল আর্মি অফিসার। একে একে ডাক পড়ল সবার। আবার এক বিপদ, দুই গাড়ির চালকের পারমিশন নেই। তাই ওরা আটকে দিল আমাদের, হরশিল থেকে ওদের পারমিশন নিয়ে আসতে হবে তবেই ছাড়া হবে। মাথায় বাজ পড়ল। এখানে থাকার জায়গা ও নেই। গাড়ি চলল আবার পিছনে। লম্বিনি গাড নামে একটা জায়গায় আমরা আজ রাত কাটাব। পারমিশন এর জন্য যেতে হবে হরশিল, তাই দেরি না করে গৌতম দা, শুভজিত দা আর সৌমাল্য দা দুই চালককে নিয়ে চলে গেল হরশিল। আমরা বাকিরা থেকে গেলাম লম্বিনি গাডে। ওরা ফিরবে কাল সকালে। একের পর এক বাধা। এদিকে তাবু খাটানো শুরু হয়েছে, রাতের আহারের জন্য রান্নার তোরজোর চলছে। সন্ধা নামছে তাড়াতাড়ি। সেই সঙ্গে তীব্র হাওয়া।। বেশি দেরি না করে তাড়াতাড়ি খাওয়া দাওয়া করে নিলাম। কাল ওরা যেন একটা সুসংবাদ নিয়ে ফেরে সেই আশা নিয়ে ঘুমাতে গেলাম আগামীর অপেক্ষায়।।
আমি দেবু আর পাপাই দা একটা তাবুতে। কোন রকমে একটা অপরিষ্কার জায়গায় তাবু খাটানো হয়েছিল। রাতটা কোন রকমে কাটিয়ে দিলাম। পরের দিন ভোর বেলা শুভজিত দার গলার আওয়াজে ঘুম ভাঙল। দেবুকে ডাক দিলাম, ওরা এসে গেছে। তাবুর চেনটা খুলে বাইরে বেরোতেই ওদের হাসি ভরা মুখ দেখেই বুঝতে পারি সব ঠিক আছে। শুভজিত দা বলল সব ঠিক, আমরা যাচ্ছি। আনন্দে ভরে উঠল মন। সকালের কাজ তারাতারি সেরে নিলাম, যত তাড়াতাড়ি এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া যায় ততই ভাল। সকালের আহার সেরে সমস্ত জিনিসপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম নীলাপানি ক্যাম্প এর উদ্দেশ্যে। আবার সেই আগের দিনের পিচ কালো রাস্তার উপর দিয়ে গাড়ি ছুটে চলল নেলং চেক পোস্টের দিকে। ঘড়িতে সকাল ৯ টা। ঘন্টা খানেকের মধ্যে নেলং চেক পোস্ট। আবার চেক। গাড়ি থামল গেটে। সবাই নেমে পড়লাম একে একে। অফিসার সব কাগজপত্র নিয়ে গেল। নাম ধরে ডাক শুরু হল, আমরা হাত তুলতে লাগলাম। সবার নাম ডাকা শেষ। সিনিয়র অফিসার নির্দেশ দিল গেট খুলে দেওয়ার জন্য। ভীষণ আনন্দের এক মূহুর্ত সবার চোখে মুখে ধরা পড়ছে। আর্মি অফিসার আমাদের অভিযানের সাফল্য কামনা করলেন। আমরা করমর্দন করে সবাইকে বিদায় জানিয়ে নেলং ত্যাগ করলাম। দুদিক জুরে নেড়া পাহাড়ের সারি, মাঝে পিচ কালো রাস্তা। বাম পাশে জাঢ গঙ্গার বিশাল গর্জ। গাড়ি এগিয়ে চলল নিজস্ব ছন্দে। অসাধারণ সুন্দর ওয়েদার। গাড়ির মধ্যে থেকে চলল ফটো তোলার পালা। কয়েকটি পাহাড়ি ঝোরা পড়ল পথে। এপথে বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। পাহাড়ী আঁকা বাঁকা পথ পেরিয়ে গাড়ি এসে পৌছল নাগা চেক পোস্ট। গাড়ি আটকালো আবার। কাগজ পত্র নিয়ে সিনিয়র অফিসারের কাছে গেল কয়েক জন। বাকিরা ওয়েট করলাম। হাওয়াযর দাপটে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। আধ ঘন্টা অতিক্রম করে গেল ওরা এখনও ফিরল না। আবার দুশ্চিন্তা, কোন সমস্যা হল নাতো আবার?? এক ঘন্টা কেটে গেল, তাও এলনা। অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। আরো আধঘন্টা পড়ে ওরা এসে বলল সব ঠিক আছে, চল বেরিয়ে পড়ি। ঘড়িতে তখন দুপুর ১২ টা। নাগা থেকে নীলাপানি ৮ কিমি। পিচ রাস্তা আর নেই। এখানে রাস্তা দুভাগ হয়েছে। বাম দিকে গেছে জাডুং গ্রাম হয়ে পুলাম সুমদা। আমাদের রাস্তা ডান দিকে। ধূলোর ঝড় তুলে গাড়ি চলল নীলাপানি ক্যাম্প। ১ ঘন্টার মধ্যে নীলাপানি পৌঁছে গেলাম। এখানে আবার চেক হবে। গাড়ি থেকে নেমে আমি শুভজিত দা আর আমাদের মেইন গাইড জয় পাল সিংকে সঙ্গে নিয়ে চললাম আর্মি অফিসে। বাকিরা মালপত্র নামিয়ে ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে গেল। এখানেই ৪ টে গাড়ি ছেরে দিতে হবে। সবার পুরো ডিটেল সেখানে লেখাতে হল। অনেক সময় চলে গেল তাতে। সব কাজ সেরে ফিরতে ফিরতে ৩ টে বেজে গেল। পাশেই আমাদের আজকের ক্যাম্প। একটা ছোট কাঠের সেতু পেরিয়ে কিছুদুর যাওয়ার পর ক্যাম্প নজরে পড়ল। জাঢ গঙ্গার ধারে আমাদের তাবু পড়েছে। ক্যাম্পে পৌছে দেবু দেখি সব রেডি করে ফেলেছে।। একটা স্বপ্নময় জায়গা। মাথার উপর নীল আকাশ, ডান পাশ দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে চলেছে জাঢ গঙ্গা। এই সব দেখতে দেখতে হারিয়ে গেলাম একটা অন্য জগতে। ওদিকে খাওয়ার ডাক পড়েছে। খাওয়া দাওয়া সেরে আবার এসে বসলাম জাঢ গঙ্গার ধারে। নিমেষেই জাঢ গঙ্গা ফুলে ফেপে ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে। আর বসে থাকা গেলনা। আমাদের ক্যাম্প এরিয়া তে জল ঢুকতে আরম্ভ করেছে। একটা নালা কেটে জল বের করার ব্যবস্থা করা হল। আমাদের ক্যাম্প এর বাম পাশের পাহাড়ের ওপারেই তিব্বতের সীমানা। পাহাড়ের খাঁজে আর্মি দের বাংকার চোখে পড়ল। ওইদিকের ছবি তোলা নিষেধ। এখানে সূর্য অস্ত যায় অনেক দেরিতে। সন্ধ্যা ৭ টা তেও এখানে ভরপুর আলো। এক আর্মি অফিসার এল আমাদের সাথে কথা বলতে। সঙ্গে আনা কিছু জুস আমাদের দিল। খোশগল্পে মেতে গেলাম আর্মি অফিসারদের সঙ্গে। ওনারা এপথের কিছু তথ্য দিচ্ছিল। সবথেকে বড় ভয় অক্সিজেন নিয়ে। অক্সিজেনের অভাব টের পাওয়া যায় প্রতি পদক্ষেপে। আবার ছুটলাম আর্মি ক্যাম্প। ওখান থেকে ফোন করা হল এজেন্সির কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য । কাল সকালের মধ্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেবে এই কথা হল। বাড়িতে ফোন করে খবর পৌঁছে দিলাম আমরা সবাই সুস্থ এবং নিরাপদে আছি।
এদিকে আঁধার ঘনাচ্ছে ধীরে ধীরে। আর্মি অফিস থেকে বেরোতেই টের পেলাম ঠান্ডাটা। অন্ধকার ঠেলে মাথার হেড ল্যাম্প জেলে পথ হাঁটছি। রাত চোরার দল সব জেগে উঠেছে। বিভৎস হাওয়ার দাপট। আকাশের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলাম হাজার হাজার নক্ষত্র মিট মিট করে জ্বলছে। সে দৃশ্য বলে বোঝাতে পারব না। সামনেই জাঢ গঙ্গার উপরে একটা ছোট কাঠের সাঁকো। অন্ধকারে কোন রকমে পেরিয়ে গেলাম, এসে পৌঁছলাম ক্যাম্পে। কালকে আমরা নীলাপানি ক্যাম্পে থাকব পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর জন্য। আর অক্সিজেন সিলিন্ডার ও এসে যাবে। পরশু আমরা বেরোব পরবর্তী ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে। এদিকে খাওয়ার রেডি হয়ে গেছে। ঘড়িতে রাত ৯টা। হাওয়ায় দাপটে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। তাড়াতাড়ি খাওয়া দাওয়া সেরে তাবুতে ঢুকলাম। একটা ছোট টিম মিটিং সেরে নিলাম। এবার ঘুমানোর পালা। রাত ১০ টা স্লিপিং ব্যাগে ঢুকে একটু গল্প। সারাদিনের ক্লান্তি তে কখন যে চোখের পাতা লেগে এল বুঝতেই পারিনি।
পরের দিন সকাল ৬টা বাইরে তাবুর আউটারে কে যেন ধাক্কা মারছে, কানে ভেসে এল "সাব জি চায়ে"।। স্লিপিং ব্যাগ থেকে কোন রকমে বেরলাম। হাতে গরম চায়ের পেয়ালা, যেন অমৃত।। চা খেয়ে বাইরে বেরিয়েছি দেখি এক আর্মি এসে হাজির। বিনা মেঘে বজ্রপাত। সব যেন কেমন তালগোল পাকিয়ে গেল। উনি এসে বলে গেলেন লখনউ এর আই টি বি পি হেড অফিস থেকে আপনাদের উপরে যেতে নিষেধ করেছে। যদিও আজ আমরা এখানে থাকবো তবুও মনের মধ্যে একটা আশংকা থেকেই গেল। ছুটলাম নীলাপানি আর্মি ক্যাম্পে। কি জন্য ওখান থেকে হঠাৎ আটকে দিল বোঝা গেলনা। আর্মি ক্যাম্পে জিজ্ঞেস করাতে ওরা বলল যতখন ওখান থেকে নির্দেশ না আসছে আমরা কিছু করতে পারবনা। এদিকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য ফোন করলাম এজেন্সি কে। উনি বলে দিলেন আজ ওখানে স্ট্রাইক চলছে, আগামী কাল সকালে হরশিল থেকে আর্মি ট্রাক বেরোবে নীলাপানির উদ্দেশ্যে, তাদের কাছে দিয়ে দেওয়া হবে ৪ টে অক্সিজেন সিলিন্ডার। কিন্তু অক্সিজেন সিলিন্ডার নেবে কে? কাল সকালে তো আমরা বেরিয়ে যাব। ঠিক হল একজন মালবাহক এখানে থেকে যাবে সে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে শেষে আসবে। এদিকে মালবাহক রা আজ কিছু কাজ এগিয়ে রাখছে। তারা মাল ফেরি করে পরবর্তী ক্যাম্পে কিছু দরকারি জিনিস আজ রেখে আসছে। যাতে কালকে অসুবিধা না হয়। ওদের উপর ও চাপ কম হবে।। নীলাপানি ক্যাম্পে দেখা হল এক বাংগালী অফিসারের সাথে। উনি তো খুবই খুশি। ওনার ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে দারুণ আতিথেয়তা। নিজে হাতে সবার জন্য চা আর আলু পরোটা করে খাওয়ালেন। দারুণ অনুভূতি। কিন্তু আমাদের মন ভাল নেই। কি হবে অভিযানের। যতখন না হেড অফিস থেকে পারমিশন আসছে আমরা এক পা ও এগোতে পারবনা। কিছুক্ষন বাংগালী অফিসারের ঘরে কাটিয়ে ওনাকে বিদায় জানালাম। উনি কিছু জুসের প্যাকেট আমাদের দিলেন আর বললেন বিকাল বেলায় তোমাদের ক্যাম্পে যাচ্ছি।
আমরা খুবই আনন্দিত এই শুনে। ওখান থেকে বেরিয়ে সোজা ক্যাম্পে। বাইরে থাকতে আর ইচ্ছে হলনা। তাবুতে ঢুকে আলোচনা করতে লাগলাম। ওখান থেকে যদি পারমিশন না দেয় তাহলে এখানেই আমাদের অভিযানের ইতি পরে যাবে। তারমধ্যে আবার এক খারাপ খবর, এক মালবাহক তার নাকি নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সে এখান থেকেই ফিরে যেতে চায়। সবমিলিয়ে ঘটনার ঘনঘটায আমরা কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। সৈকত দেখি বাইরে পায়চারি করছে। আমি তাবুর চেন খুলে বাইরে বেরোলাম, সৈকত কে বললাম চল সামনের পথটা একটু দেখি আসি। ও রাজি হয়ে গেল। বসে থাকলে আরো বেশি খারাপ লাগছে। আমি আর সৈকত আলোচনা করলাম এটা যদি আটকে দেয় তাহলে আমরা কালিন্দী রূটে বেরিয়ে যাব। এইসব আলোচনা করতে করতে পথ চলেছি। জাঢ গঙ্গার বাম পাশ দিয়ে আমাদের পথ, ডান দিকে উঠে গেছে ভগ্ন পাহাড় শ্রেনী। অনবরত পাথর গড়িয়ে পরছে উপর থেকে। ডান দিকের যে পাহাড় ওটার ওইদিকে গোমুখ কালিন্দী খালের রুট। কিন্তু এই দিকের সাথে ওই দিকের যে রূপ তা সম্পূর্ণ আলাদা। কিছুদূর চলার পর আর পথের নিশানা পেলাম না। সৈকতকে বললাম আর এগোন ঠিক হবেনা। কিছুক্ষন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে সেখান থেকে ফেরার পথ ধরলাম। ওদিকে পিনাকী দার ও শরীর খারাপ। পিনাকী দা এখান থেকেই ফিরে যাবে। আমাদের একজন সদস্য কমে যাবে আজ। ক্যাম্পে ফিরে দেখি পিনাকী দা রেডি। মন টা আরো ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। দুপুরের খাওয়া সেরে এক মালবাহক আর আমাদের এক পথের সাথী কে এখান থেকে বিদায় জানালাম। ওরা অফিসারের গাড়ি করে হরশিল হয়ে উত্তরকাশী চলে যাবে আজ ই। ভারাক্রান্ত মনে জাঢ গঙ্গার ধারে বসে নানা রকম চিন্তা করছি। মনে পড়ছিল হেনরিক হ্যারারের সেই দুঃসাহসিক কাহিনী। তখন ১৯৪৩-৪৪ সাল। যুদ্ধ ঘোষণা হয়েছে। হেনরিক হ্যারার হরশিল থেকে এ পথেই তিব্বতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। এই কাহিনী নিয়ে পরে একটি চিত্রনাট্য হয়, হ্যানরিক হ্যারারের চরিত্রে ব্রেড পিট অভিনয় করেছিলেন। সেখানে এই পলায়ন কাহিনীর বর্ননা শোনা যায়। যাই হোক অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে এলাম। আর বসে থাকতে পারলাম না। হাওয়ায় দাপটে চারিদিকে ধূলো ভরে গেল। গিয়ে ঢুকলাম তাবুতে। তাবু উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জোগাড়। দেবু আর শুভজিত দা বসে আছে। ওদিকে
চায়ের জন্য বলা হয়েছে। কিছুক্ষন পর চা এসে গেল আর সাথে বাড়তি পাওনা লাল নীল পাপড় ভাজা। পানপাতিয়া অভিযানের দিন গুলো মনে পড়ে যাচ্ছে। চা খেয়ে আবার বাইরে বেরোলাম। বাইরে বেরিয়ে দেখি আর্মি এক বড় অফিসার ও সেই বাংগালী অফিসার সাথে আরো কয়েকজন আমাদের সাথে দেখা করতে এসেছেন। আমরা আশাবাদী কোন সুসংবাদ হয়তো এনেছেন ওনারা। আমরা ওনাদের জিজ্ঞেস করলাম পারমিশনের কোন খবর আছে কিনা? ওরা বলল আজ রাতের মধ্যেই সব খবর পেয়ে যাবেন। ওনারা আমাদের নানান রকম প্রশ্ন করতে আরম্ভ করলেন!! কেন এখানে এসেছেন এত ট্রেকিং রুট থাকতে? এ ইলাকা বহত খতরনাক হ্যা। হাম লোক মাইহনে মে তিন বার যাতে হ্যা রেকি কারনে কে লিয়ে। এ জো নদী হ্যা না ইসকা পানি কাব বাড় জাতা পাতা নেহি আতা। ইস লিয়ে আপ লোগোকো কাল একদম শুভা নদী ক্রস কারনা পারেগা, নেহিতো ফাঁস যায়োগে। উনি আরো বললেন আমি এখানে যতদিন কাজ করছি এত বড় টিমকে কখনও আসতে দেখিনি। আপনারা এখানে আসার সাহস দেখিয়েছেন এটাই সব থেকে বড় ব্যাপার। আপনারা সফল হন এবং আপনারা পারবেন ও যদি সব ঠিক থাকে। ওনার কথায় আমরা খুবই আনন্দিত। উনি বলে গেলেন রাতে আমাদের অফিসার এসে পারমিশনের ব্যাপারে জানিয়ে দেবে। আপ লোগ চিন্তা মত কারো, সব ঠিক রাহেগা। এই বলে উনি চলে গেলেন। ঘড়ি তে ৭ টা বাজে। রান্না ঘরে রান্নার তোরজোর চলছে। আমরা যে যার তাবুতে গেলাম। তাবুর সোলার লাইট জ্বালিয়ে আমি দেবু আর শুভজিত দা গল্পে মত্য। ঘন্টা খানেক পরে গৌতম দার গলার আওয়াজ। চেন খুলে গৌতম দা আমাদের তাবুতে ঢুকলো। হঠাৎ প্রশ্ন করল তোমরা কি কাল রাতে কিছু টের পেয়েছো? আমি বললাম না তো।। গৌতম দা বলল রাত তখন ২টো হবে, আমি বাইরে বেরিয়েছিলাম!! হঠাৎ দেখলাম পাশের পাহাড়ে একটা আগুনের শিখা দপ করে জ্বলে উঠে নিভে গেল। বলল ভাবলাম চোখের ভুল হবে হয় তো। কিন্তু না আবার কিছু সময় পর এক জিনিস নজরে এল। শুভজিত দা বলে উঠল এক জিনিস আমিও দেখেছি। কিন্তু আমি কাউকে বলিনি। গৌতম দা বলল ওই গভীর রাতে আগুন জ্বলে ওঠা পাহাড়ের উপরে এটা কি করে সম্ভব। সত্যি একটা রহস্যময় জায়গা। কত যে রহস্য লুকিয়ে আছে এখানে চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেনা। ডিনারের জন্য ডাক পড়ল। রাত নটা, এই ঠান্ডায় বেশি দেরি করে লাভ নেই। খাওয়া দাওয়া সেরে নিলাম তাড়াতাড়ি। তাবুতে ঢুকতে যাব এমন সময় অফিসার এসে হাজির। বলল আপ লোগকা পারমিশন মিল গায়া একদম শুভা নিকাল যাও ইহাসে। মনে তখন আনন্দ ধারা খেলে যাচ্ছে সবার। এতদিনের রাত জেগে এত পরিশ্রম করা সব সফল হতে চলেছে। কাল আমরা রওনা দেব অজানার উদ্দেশ্যে। ঘুম আসছে না উত্তেজনায়। তাবুর চেন খুলে বাইরে বেরোলাম। হতবাক হয়ে গেলাম, রাতের আকাশে জ্বল জ্বল করছে অসংখ্য নক্ষত্র, যেন সত্যি কিছু বলতে চায়। হঠাৎ একটা নীশাচর পাখির আওয়াজে বুকের ভীতরটা খান খান করে দিয়ে চলে গেল। জানিনা কি বলতে চাইল পাখিটা। দুরের পাহাড়ের মাঝে ওই মাঝরাতে আগুন জ্বলে ওঠা, সত্যি কি কিছু বলতে চায়? আগামীর অপেক্ষায় রইলাম।
আমরা আছি নীলাপানি তে। নীলাপানি হল জাঢ গঙ্গা ও নীলাপানি নদীর সংগম স্থল।। এখান থেকে জাঢ গঙ্গা নাম নিয়ে ভৈরভঘাটির কাছে ভাগীরথীর সঙ্গে জাঢ গঙ্গা মিলিত হয়েছে। এখান থেকে চলে যাওয়া জনক তাল, চুনসা খাগা গিরিবর্ত পেরিয়ে হিমাচলে। আরো অনেক অজানা পথে। যা আজও রহস্যময়। খুব তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে গেল।। তাবু থেকে বাইরে বেরিয়েছি, ঘড়ির কাঁটায় ভোর ৫.30।। কিচেন টেন্টের দিকে এগিয়ে গেলাম।। দেখলাম চা রেডি হচ্ছে, আর কয়েকজন মিলে মালপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে।। আজকেই যে আমাদের এই ক্যাম্প ছাড়তে হবে।। এগিয়ে যাবো এক অচেনা অজানা পথের উদ্দেশ্যে।। এখন হাওয়ার দাপট ওতোটা নেই।। যত বেলা বাড়বে হাওয়ার তেজ তত বাড়বে।। সবাই তাবু ছেড়ে ধীরে ধীরে বাইরে বেরোল।। সকাল ৬ টা নাগাদ চা খেয়ে প্রয়োজনিয় কাজ সেরে নিলাম।। তারপর সকালের আহার সেরে ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমাদের লক্ষ্যের দিকে।। যত দেরি হবে জাঢ গঙ্গার জল তত বাড়তে থাকবে।। ডান পাশে জাঢ গঙ্গাকে রেখে আমরা বাঁম পাশ দিয়ে হাঁটতে লাগলাম।। চারিদিকে শুধু বোল্ডার আর বোল্ডার।। হাওয়ার দাপট ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল।। হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়লাম একটা ল্যান্ড স্লাইড জোনে।। একজন একজন করে খুব সতর্ক ভাবে পেরিয়ে গেলাম সেই অঞ্চল।। একবার পা স্লিপ করলে কয়েক শো ফুট নীচে সোজা জাঢ গঙ্গায়।। সেই অঞ্চল পেরিয়ে একটু জল পানের বিরতি।। আবার চলা শুরু, যত এগিয়ে চলেছি পথের চিত্র পালটে যাচ্ছে।। পাথরের নানা রকমের চালচিত্র এদিক ওদিক।। নীচ দিয়ে প্রবল গতিতে বয়ে চলেছে জাঢ গঙ্গা।। কিছুক্ষন চলার পর থমকে দাঁড়ালাম, পিছন দিক থেকে কয়েকজনের চিৎকারের শব্দ।। কি হয়েছে বুঝে ওঠার আগেই আমাদের সামনে থাকা কয়েকজন মালবাহক মালপত্র ফেলে দৌড় লাগালো।। আমাদের সাথে থাকা গাইড জয়পাল সিং ও চলে গেল আমাদের এখানেই বসে থাকতে বলে।। কিছুক্ষন পর গাইড ফিরে আসার পর জানতে পারলাম একজন মালবাহক পড়ে গিয়ে থরথর করে কাঁপছে।। তার অবস্থা খুব খারাপ।। ওকে নীচে পাঠাতে হবে আর ওর সাথে আরো তিনজনকে যেতে হবে।। ওকে নিয়ে তিন জন চলে গেল নীলাপানি ক্যাম্পে। মালপত্র সব ওরকম ভাবেই পড়ে থাকল।। আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে ঠিক করলাম কিছুটা এগিয়ে নদীর এপারেই আমাদের ক্যাম্প হবে।। কারণ মালবাহকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।। এত মালপত্র কিভাবে নিয়ে যাওয়া হবে!!!! ওরা তিনজন ফিরে আসা না অবধি কোন কিছু করা যাবেনা।। বোল্ডারে ঘেরা পথ পেরিয়ে একটি খালি মত জায়গায় আমাদের ক্যাম্প হল।। কিছু মালবাহক চলে গেল নীচে পড়ে থাকা জিনিসপত্র আনতে, আমরা কয়েকজন তাবু খাটাতে আরম্ভ করলাম।। ১১ জন মালবাহক থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭ জন।। বিকেলে ওই তিনজন যদি না ফেরে তাহলে কি হবে ভাবতেই পারছিনা।। মন সবার ভারাক্রান্ত।। খাওয়ার ইচ্ছা নেই কারো।। ভারাক্রান্ত মনে গিয়ে ঢুকলাম তাবুতে।। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলছে ধীরে ধীরে।। যতদূর চোখ যায় শুধু ধূসর পাহাড় শ্রেণীর দল।। এ যেন এক টুকরো লাদাখ।। সবুজের লেশ মাত্র নেই কোথাও।। এই সব দেখতে দেখতে এক মালবাহক চলে এল ।। যে অসুস্থ হয়েছিল তার খবর জানতে চাইলাম ওর কাছে, ও জানাল ওকে হরশিল নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য।। আর জানালো আগের থেকে অনেকটা ভালো আছে সে।। কিন্তু বাকি মালবাহক রা গেল কোথায়? জানালো বাকি দুজধ ওর সাথে নীচে নেমে গেছে।। ওরা এখানে আসতে চাইছেনা। সব কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে গেল! ততক্ষনে অন্ধকার ঘনিভূত হয়েছে। একটা টিম মিটিং ডাকা হল। টিম মিটিং এ ঠিক হল কয়েকজনকে নামতে হবে নীচে।। কে কে নীচে যাবে সেটা কাল সকালে ঠিক হবে, আর সাথে পাঠানো হবে এক মালবাহক কে।। কিচেন ঘরে তখন চলছে রান্নার আয়োজন।। মিটিং শেষে খাওয়া দাওয়া সেরে যে যার তাবুতে চলে গেলাম।।
পরের দিন সকাল আজ ও আমাদের এই ক্যাম্পে কাটাতে হবে, অক্সিজেন সিলিন্ডার এখনো এসে পৌছায়নি।। একজন মালবাহক চলে গেল সিলিন্ডার আনতে।। আজ কারোর মন ভালো নেই।। আজ আমাদের পথের সাথী ৪ জনকে বিদায় জানাতে হবে, তা না হলে এত কম সংখ্যক মালবাহক নিয়ে আগে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।। সকালের আহার সেরে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিদায় জানালাম ওদের চারজনকে (পিঙ্কু দা, সৌমাল্য দা আর কেরালা থেকে আসা আরো ২ জন)।। আমরা বসে থাকলাম পাথরের উপর, যতক্ষন না ওরা মিলিয়ে গেল।। রয়ে গেলাম আমরা ৭ জন, ৭ জন মালবাহক আর ২ জন গাইড।। এই কজন মিলে আগামী কাল বেরিয়ে পরবো লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে।। সকাল গড়িয়ে দুপুর, লাঞ্চ সেরে বেরিয়ে পড়লাম একটু এদিক ওদিক ঘুরতে।। অনেক নীচ দিয়ে বয়ে চলা জাঢ গঙ্গার ধারে গিয়ে বসলাম।। কেটে গেল বেশ অনেকটা সময়।। বিকেলের দিকে ক্যাম্পে ফিরে পাথর দিয়ে বানানো হল মন্দির।। পূজা সেরে ক্যাম্পের দিকে ফিরছি দেখি আমাদের মালবাহক অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসছে, কিন্তু তার মধ্যে কেমন একটা ভয়ের ছাপ দেখা গেল।। সে এসে জানালো "এক আরমি অফিসার মেরে পিছে পিছে আ গায়া, মুঝকো বোলা উন লোগোকো উপার জানে কে লিয়ে মানা কার দো, নীলাপানি ক্যাম্প সে ওরডার হ্যা"।। আমাদের মাথায় পড়লো বাজ।। গাইড রাও বেঁকে বসলো, ওরা বলে দিল হাম লোগ আরমি কা ঝামেলে মে নেহি পড়না চাহাতা।। বাদমে হাম লোগোকো বহত পরিশান কারেগা ও লোগ।। ওরা বলে দিল আমরা আর কোন মতেই উপরে যাবনা।। জানিনা কোন কারণে নীচে থেকে এমন অরডার এল।। আর কিছু করার নেই এখানেই আমাদের অভিযানের ইতি পড়ে গেল।।
অভিযান ক্যানসেল।। রাত টা এখানে কাটিয়ে পরের দিন সকালে চলে যাব যে পথে এসেছিলাম সেই পথে।। নীলাপানি থেকে 8 কিমি নাগা।। ওই ৮ কিমি রাস্তা হেঁটে চলে গেলাম। কারণ কোন গাড়ি ছিলনা। নাগা পৌঁছে আর্মি রাই আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিল। সে সব দিন ভোলার নয়। নাগা থেকে আর্মি ট্রাকে নেলং পর্যন্ত গেলাম। সেখানে আবার চেকিং করতে হলো। কিন্তু এখান থেকে ফিরব কি ভাবে!!! আর্মি রা বলে দিল সামনে রাস্তার কাজ হচ্ছে ওখানে যদি কোন গাড়ি পান তাতে করে চলে যান। অনেক খোঁজ করার পর একটা সিমেন্ট বোঝাই লরির খোঁজ পাওয়া গেল। কোন রকমে তাতে চেপে বসলাম। বিদায় জানালাম নেলং কে। ভৈরবঘাটি যখন পৌঁছলাম আমাদের সারা শরীর সিমেন্টে পুরো সাদা। সেদিন ভৈরবঘাটি কাটিয়ে পর দিন উওরকাশি তে কিছু দরকারি কাজ সেরে পরদিন হরিদ্বার। অধরা থেকে গেল বাসিসি ওয়েষ্ট।। তবে আবার যদি কখনো সুযোগ আসে অবশ্যই ফিরে আসবো। হারের মধ্যে ও একটা জিৎ আছে, সেই সপ্ন নিয়ে আবার বেরিয়ে পরবো কোন অচেনা অজানা পথে।।
।।।। সমাপ্ত।।।।।